ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে, দেশটা কি মগের মুল্লুক: হাইকোর্ট

ads

৩ হাজার ৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে পিকে হালদারের বিদেশে থাকা নিয়ে আদালত বলেছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে পলাতক আসামি ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে, দেশটা কি মগের মল্লুক?। আদালত আরো বলেন, পিকে হালদারকে বিদেশ থেকে ধরে এনে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।একইসঙ্গে পিকে হালদারকে গ্রেপ্তার ও ফেরাতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা ১০ দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্রসচিব, পররাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের তা জানাতে বলা হয়েছে।


এর আগে গত ২১ অক্টোবর প্রায় ৩ হাজার ৬শ কোটি পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিদেশে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) দেশে ফিরলেই আইনশৃঙখলা বাহিনীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ। একইসঙ্গে দেশে ফিরে আইনের হেফাজতে থেকে যেন পিকে হালদার পাওনাদারদের টাকা পরিশোধে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


আদালতে পিকে হালদারের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) দেশে ফিরতে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে তার জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে আদালতের কাছে নিরাপত্তা চান। 


গত ২১ জানুয়ারি প্রায় ৩ হাজার ৬শ কোটি টাকা পাচার করার ঘটনায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) সহ উনিশ জনের সব সম্পদ, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও পার্সপোর্ট আটকানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অন্যরা হলেন, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক জহিরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, বাসুদেব ব্যানার্জী, পাপিয়া ব্যানার্জী, মোমতাজ বেগম, নওশেরুল ইসলাম, আনোয়ারুল কবির, প্রকৌশলী নরুজ্জামান, আবুল হাসেম, রাশেদুল হক, পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, ভাই প্রিতুষ কুমার হালদার, চাচাতো ভাই অমিতাব অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক পরিচালক ইরফান উদ্দিন আহমেদ, পি কে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী।


বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডে বিনিয়োগকারী দুই জনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।


বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পি কে হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে লোপাট করেছেন অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।


নাম প্রশান্ত কুমার হালদার, সংক্ষিপ্ত রূপ যার পি কে হালদার। প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।এমন আরো কিছু প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) ইত্যাদি।


অভিযোগ রয়েছে, ওই সব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন ও নতুন আরও কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছেন পি কে হালদার। নিজেও পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে।


ক্যাসিনো অভিযানের ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে এরইমধ্যে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে মামলা করার আগেই লাপাত্তা পি কে হালদার।রাইজিংবিডি.কম

ads
ads
ads

Our Facebook Page